এনজিও’র ঋণ শোধে অনাগত সন্তান বিক্রি

জামালপুর
জামালপুর

সন্তান এখনও মায়ের মুখ দেখেনি, দেখেনি পৃথিবীর আলো। অভাবের সংসারে জন্ম নেওয়ার আগেই বদলে যাওয়ার কথা ছিল অভিভাবকত্ব। মাত্র ৪০ হাজার টাকায় অন্যের ঘরে নিজের পরিচয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল শিশুটির।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়ার অন্তঃসত্ত্বা রাবেয়ার (৩০) জীবনে ঘটেছে এ ঘটনা।

দুটি এনজিও’র কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না রাবেয়া। একদিকে অভাব, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের জন্য অতিষ্ঠ রাবেয়া বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নেন সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার।

চার সন্তানের জননী এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা রাবেয়ার স্বামী জাহাঙ্গীর দিনমজুর। অভাবের সংসারে বেশ কিছু সাংসারিক প্রয়োজনে স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক ও আশা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। সাপ্তাহিক কিস্তিতে এ ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ঋণের টাকা সময় মত শোধ করতে না পারায় ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। এ অবস্থাতে দিনমজুর স্বামী রাবেয়া আর সন্তানদের রেখে পালিয়ে যায়।

এ দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকা ঋণের বোঝা শোধ করার আর কোনো উপায় না পেয়ে অনাগত সন্তানকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সন্তানের ক্রেতার কাছ থেকে বর্তমানে সংসার চালানোর জন্য ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেন। অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা সন্তান প্রসব হওয়ার পর তার পাওয়ার কথা।

সন্তান বিক্রির এ খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে শুক্রবার (৫ অক্টোবর) রাবেয়ার বাড়িতে যান বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

নির্বাহী অফিসার রাবেয়ার হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত উপজেলা মহিলা বিষয়ক সুপারভাইজার রাবেয়াকে মাতৃত্বভাতা বাবদ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

ইউএনও’র কাছ থেকে নগদ টাকা সাহায্য পেয়ে গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রির জন্য নেওয়া অগ্রিম ৫ হাজার টাকা রাবেয়া ফেরত দেন। এছাড়াও ইউএনও রাবেয়ার প্রতি মাসে ৩০ কেজি খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সেবা ও ঋণ পরিশোধের জন্য ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে সার্বিক দায়িত্ব নেন।

সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত রাবেয়াকে হারাতে হয়নি তার অনাগত সন্তানকে। এ ব্যাপারে রাবেয়া বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমার পেটের সন্তান রক্ষা পেয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মানবিক কারণেই রাবেয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিস্তারিত জানতে……